Solar Storm: সূর্যের বুকে পরপর বিস্ফোরণ, পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে সৌরঝড়, কী কী প্রভাব পড়তে চলেছে?
কলকাতা: সূর্যের বুকে পরপর বিস্ফোরণ। তার জেরে মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বিপুল পরিমাণ আধানযুক্ত কণা ও চৌম্বকীয় পদার্থ। আগামী ১১ অক্টোবর এই সৌর পদার্থ পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন মহাকাশ আবহাওয়া সংক্রান্ত সংস্থা NOAA। সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, পৃথিবীতে মাঝা

কলকাতা: সূর্যের বুকে পরপর বিস্ফোরণ। তার জেরে মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বিপুল পরিমাণ আধানযুক্ত কণা ও চৌম্বকীয় পদার্থ। আগামী ১১ অক্টোবর এই সৌর পদার্থ পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন মহাকাশ আবহাওয়া সংক্রান্ত সংস্থা NOAA। সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, পৃথিবীতে মাঝারি মাত্রার G2 জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম বা ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় তৈরি হতে পারে। এর প্রভাবে কিছু অঞ্চলে স্যাটেলাইট পরিষেবা, রেডিও যোগাযোগ এবং নেভিগেশন ব্যবস্থায় সাময়িক সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। NOAA-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, সূর্য থেকে ৭ ও ৮ অক্টোবর নির্গত দুটি সোলার স্টর্ম পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে। দ্বিতীয় স্টর্ম প্রথমটির তুলনায় দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। ফলে পৃথিবীর কাছে পৌঁছনোর আগে দুটি সৌর স্টর্ম পদার্থ একসঙ্গে মিশে যেতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সৌরঝড়ের তীব্রতা কতটা হবে, তা নির্ভর করবে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের উপর। কী এই সৌরঝড়? সূর্য থেকে শক্তি, বিকিরণ এবং ইলেকট্রন-প্রোটন কণা মহাকাশে ছড়িয়ে পড়লে তাকে সাধারণভাবে সৌর ক্রিয়াকলাপের অংশ হিসেবে দেখা হয়। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হল করোনাল মাস ইজেকশন বা CME। এই প্রক্রিয়ায় সূর্যের বহিরাবরণ থেকে বিপুল পরিমাণ প্লাজমা এবং চৌম্বকীয় পদার্থ মহাকাশে নির্গত হয়। এই পদার্থ পৃথিবীর কাছে পৌঁছে পৃথিবীর নিজস্ব চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করলে জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম বা ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় তৈরি হতে পারে। ঝড়ের তীব্রতা অনুযায়ী পৃথিবীর বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। কতটা শক্তিশালী হতে পারে এই সৌরঝড়? NOAA ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়কে G1 থেকে G5—এই পাঁচটি স্তরে ভাগ করে। G1 হল অপেক্ষাকৃত দুর্বল বা সামান্য মাত্রার ঝড়, আর G5 হল অত্যন্ত তীব্র ঝড়। বর্তমান পূর্বাভাসে ১১ অক্টোবরের জন্য G2 স্তরের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি মাঝারি মাত্রার ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় হতে পারে। G2 স্তরের ঝড়ের প্রভাব সাধারণত উচ্চ অক্ষাংশে বেশি অনুভূত হয়। সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ভোল্টেজের ওঠানামা হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হতে পারে। কিছু অঞ্চলে রেডিও সিগন্যাল দুর্বল হওয়া এবং স্যাটেলাইট-নির্ভর নেভিগেশনের নির্ভুলতায় সাময়িক পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। আকাশে দেখা যেতে পারে মেরুজ্যোতি? সৌরঝড়ের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রভাব হল অরোরা বা মেরুজ্যোতি। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে আধানযুক্ত কণার সঙ্গে বিভিন্ন গ্যাসের মিথস্ক্রিয়ার ফলে আকাশে সবুজ, লাল, বেগুনি-সহ নানা রঙের আলোর পর্দা তৈরি হতে পারে। উত্তর মেরু অঞ্চলে এই দৃশ্যকে অরোরা বোরিয়ালিস বা নর্দার্ন লাইটস বলা হয়। ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়ের তীব্রতা বেশি হলে স্বাভাবিকের তুলনায় অপেক্ষাকৃত নিম্ন অক্ষাংশের কিছু অঞ্চল থেকেও মেরুজ্যোতি দেখা যেতে পারে। তবে এই সৌরঝড়ের ক্ষেত্রে কোথায় এবং কতটা স্পষ্টভাবে অরোরা দেখা যাবে, তা নিশ্চিত নয়। সৌর পদার্থের চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্য এবং পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে তার মিথস্ক্রিয়ার উপরই তা নির্ভর করবে। ভারতে কি বড়সড় বিপদের আশঙ্কা? বর্তমান G2 পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উপর বড়সড় সরাসরি প্রভাব পড়ার ইঙ্গিত নেই। দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও এই পূর্বাভাস থেকে করা যায় না। একইভাবে, ভারতের সর্বত্র মেরুজ্যোতি দেখা যাবে—এমন কোনও ইঙ্গিতও নেই। তবে মহাকাশ আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল। সৌর পদার্থ পৃথিবীর কাছে পৌঁছনোর আগে এবং পৌঁছনোর সময় তার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে ঝড়ের সম্ভাব্য তীব্রতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।