Sonam Wangchuk: দেওয়া হয়নি মোবাইল, লিখতেন টিস্যুতে! চোখে পড়লে ছিঁড়ে ফেলা হত সেটাও! সফদরজং-এ ভয়াবহ অভিজ্ঞতা সোনম ওয়াংচুকের!
কলকাতা: যন্তর মন্তরের শান্তিপূর্ণ অনশন মঞ্চে হঠাৎ সাদা পোশাকে উঠে এসেছিল পুলিশ, তারপরেই ব়্যাফ। সাদা চাদর দিয়ে আড়াল করে, মঞ্চ থেকে তুলে নিয়ে চলে যাওয়া হয় তাঁকে। রাখা হয় হাসপাতালে। ১৮ জুলাই সকালটার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না, খোদ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) ও! অনশন মঞ্চে গত বেশ কিছু দিনের মতো

কলকাতা: যন্তর মন্তরের শান্তিপূর্ণ অনশন মঞ্চে হঠাৎ সাদা পোশাকে উঠে এসেছিল পুলিশ, তারপরেই ব়্যাফ। সাদা চাদর দিয়ে আড়াল করে, মঞ্চ থেকে তুলে নিয়ে চলে যাওয়া হয় তাঁকে। রাখা হয় হাসপাতালে। ১৮ জুলাই সকালটার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না, খোদ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) ও! অনশন মঞ্চে গত বেশ কিছু দিনের মতোই, শুয়ে ছিলেন তিনি, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে, ককরোচ জনতা পার্টির কর্মীরা.. ছিলেন প্রত্যেকেই। কিন্তু এদিন সকালে হঠাৎ যন্তর মন্তরে সাদা পোশাকে হাজির হয় পুলিশ। সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে, জানানো হয়, তাঁর অনশনের কারণে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। সেই কারণেই তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু কী হয়েছিল তারপর? হাসপাতালের দুর্বিসহ অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনলেন সোনম ওয়াংচুক আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিস্ফোরক ভিডিও পোস্ট করেছেন সোনম ওয়াংচুক। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, ১৮ জুলাই তাঁকে যন্তর মন্তর থেকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরে, ঠিক কী কী হয়েছিল তাঁর সঙ্গে? সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে, স্ত্রী গীতাঞ্জলি নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনও খাবার ও ওষুধ দেওয়া যাবে না সোনমকে। শুরু করা যাবে না কোনও চিকিৎসা, দেওয়া যাবে না স্যালাইন ও। পাশাপাশি সোনম ওয়াংচুককে বেসরকারি হাসপাতালে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আদালতের ও দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। তবে হাসপাতালে কয়েকটা দিন, কার্যত দুর্বিসহ কেটেছে সোনম ওয়াংচুকের। সেই কথা প্রকাশ্যে আনলেন তিনি এবার। সোনম ওয়াংচুক একটি ভিডিও পোস্ট করে জানিয়েছেন, তাঁকে হাসপাতালের একটি আলাদা ঘরে রাখা হয়েছিল। সঙ্গে রাখতে দেওয়া হয়নি মোবাইল বা ল্যাপটপের মতো কোনও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট। ঘরের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল তাঁর, একাধিক কাজেও ছিল নিষেধাজ্ঞা। সবসময় পাহারায় থাকত পুলিশ, কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হত না ঘরে। পাশাপাশি সোনম ওয়াংচুক আরও জানান, হাসপাতালে আত্মীয়রা লাদাখ থেকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এলে, তাঁদের ফিরতি প্লেনের টিকিট কেটে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাত্র ৩ জন আত্মীয় ছাড়া আর কারও সোনমের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি ছিল না। হাসপাতালে থাকাকালীন, হাতে লেখা বার্তা পাঠাতেন সোনম। এদিন তিনি জানান, তাঁকে কাগজ কলম পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। লুকিয়ে টিস্যুতে করে বার্তা লিখে তা গোপনে কারও হাত দিয়ে হাসপাতালের বাইরে পাঠাতেন তিনি। কারও চোখে পড়লে, সেটাও কেড়ে নিয়ে নষ্ট করে ফেলা হত।' সোনম আরও জানান, আদালতের নির্দেশের পরেও, তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়নি। দুপুর ২টো থেকে সন্ধে ৭টা পর্যন্ত অপেক্ষা করানো হয়েছিল। শেষে প্রায় শারীরিক জোর দেখিয়ে, জোর করে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান সোনম। তাঁকে হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার পিছনে যে স্ত্রী গীতাঞ্জলির অবদান রয়েছে অনেকটাই, তা জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। আরও পড়ুন: Sonam Wangchuk: 'দীর্ঘ আলোচনার পরেই এই সিদ্ধান্ত, সব প্রকাশ্যে আনব', অনশন ভেঙে বার্তা সোনম ওয়াংচুকের