Sonam Wangchuk: স্থানান্তরিত করা হয়েছে বেসরকারি হাসপাতালে, প্রথম ভিডিও বার্তা এল সোনম ওয়াংচুকের! তিনি বলছেন..
কলকাতা: দীর্ঘ বিতর্ক, লড়াই... এমনকি আদালত পর্যন্ত ও গড়িয়েছে মামলা। অবশেষে আদালতের রায় নিয়েই, সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতাল থেকে পাঠানো হল, অন্য বেসরকারি হাসপাতালে। যন্তর মন্তরের অনশন মঞ্চ থেকে হঠাৎই সাদা পোশাকের পুলিশ, সাদা চাদরে আড়াল করে তুলে নিয়ে যায় সোনম ওয়াংচুককে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে

কলকাতা: দীর্ঘ বিতর্ক, লড়াই... এমনকি আদালত পর্যন্ত ও গড়িয়েছে মামলা। অবশেষে আদালতের রায় নিয়েই, সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতাল থেকে পাঠানো হল, অন্য বেসরকারি হাসপাতালে। যন্তর মন্তরের অনশন মঞ্চ থেকে হঠাৎই সাদা পোশাকের পুলিশ, সাদা চাদরে আড়াল করে তুলে নিয়ে যায় সোনম ওয়াংচুককে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে, এই কারণ দেখিয়ে সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। তাঁর চিকিৎসা শুরু করার ও চেষ্টা করা হয়েছিল সেই সময়ে, তবে রুখে দাঁড়ান স্ত্রী গীতাঞ্জলি। তিনি হাসপাতালকে কড়া বার্তা দেন যে, তাঁর অনুমতি না নিয়ে সোনমকে কোনও খাবার দেওয়া যাবে না। কোনও ওষুধ বা ইঞ্জেকশন ও দেওয়া যাবে না, চিকিৎসা ও করা যাবে না। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা চেষ্টা করছেন, সোনমকে কোনও বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার। পাশাপাশি গীতাঞ্জলি জানিয়েছেন, সফদরজং হাসপাতালে যে রিপোর্ট দেখানো হচ্ছে, তার স্বচ্ছতা নেই। এই মর্মে আদালতে মামলা ও দায়ের করা হয়েছিল। অবশেষে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, ভারতের একজন নাগরিক হিসেবে সমস্ত নাগরিকের নিজের চিকিৎসা বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। আর সেই কারণেই, সোনমের অনুমতি নিয়ে তাঁকে তাঁর যে হাসপাতালে ইচ্ছা, সেখানে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। আর সেই কারণেই, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার তাঁকে পরিবারের তরফে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতাল থেকে সোনম ওয়াংচুকের প্রথম ভিডিও-বার্তা, কী বললেন তিনি? আর হাসপাতাল থেকে প্রথম ভিডিও বার্তা দেন, সোনম ওয়াংচুক। এর আগে, সফদরজং হাসপাতালে তাঁর কাছে কোনও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট রাখতে দেওয়া হয়নি। সেই কারণে তিনি টিস্যুতে লিখে বার্তা পাঠাচ্ছিলেন। আর এবার তিনি এই প্রথম ভিডিও বার্তা দিলেন। কী বললেন তিনি? সোনম বলছেন, 'নমস্কার আমার বন্ধুরা.. হ্যাঁ আমি এখনও বেঁচেই রয়েছি। এটা আমার অনশনের ২৫ তম দিন। এই ২৫ দিনে আমার মোটামুটি ১১ কিলো ওজন কমে গিয়েছে। মাংসপেশী কমে আসছে.. কিন্তু আমি ঠিকই আছি। গতকাল রাতে আমায় সফদরজং হাসপাতাল থেকে গুরগাঁওয়ের এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। আমি অভিবাদন জানাতে চাই সেই সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের যাঁরা এত শান্তির সঙ্গে, এত ধৈর্য্য ধরে আন্দোলন করেছেন। ওঁদের ওপর লাঠিচার্জ হয়েছে, পাথর ছোড়া হয়েছে.. কিন্তু ওঁরা পাল্টা হামলা করেননি। অসীম ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছেন সবাই। আমার হৃদয় গলে গিয়েছে এতে। আর যেহেতু ছাত্রছাত্রীদের ওপর বর্বরতা হয়েছে, হামলা হয়েছে... তাই আমি অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার সঙ্গে অনেকে দেখা করতে এসেছেন। প্রায় ৬৫ জন সাংসদ কেউ দেখা করেছেন, কেউ বার্তা পাঠিয়েছেন.. প্রত্যেকেই আমায় অনশন ভঙ্গ করার কথা বলেছেন। দেশের সেবায় ফিরে যেতে বলেছেন। আমি নিজেও এটাই করতে চাই। আমার জন্য আমার কাজ ভীষণ জরুরি। কিন্তু আমি সরকারের কাছে মিনতি করছি, বাচ্চাদের ওপর আর ক্ষমতার আস্ফালন দেখাবেন না। দ্বিতীয়ত, ওদের ওপর ভুয়ো মামলা, FIR করবেন না, যাতে ওদের হেনস্থা করা যায়। এটা দয়া করে করবেন না আর এটা যে হবে না, আমায় এই কথা দিতে হবে। কিন্তু আমায় যদি সরকার এই আশ্বাস না দেন, তাহলে আমি অনশন জারি রাখব। জয় হিন্দ।' আরও পড়ুন: Delhi Protest: ফের উত্তপ্ত যন্তর মন্তর! পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ার অভিযোগ, পাল্টা লাঠিচার্জ