Sonam Wangchuk Hunger Strike: সরকারের সঙ্গে বিশেষ ‘ডিল’? মুখ খুললেন সোনম ওয়াংচুক, বললেন, ‘বিশ্বাসভঙ্গ হয়েছে’
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে এবার বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুললেন শিক্ষাবিদ তথা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর দাবি, ২৬ দিন ব্যাপী অনশন ভাঙার মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে কেন্দ্র। গোটা ঘটনায় দেশের সব দলের নেতাদের প্রতিই হতা

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে এবার বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুললেন শিক্ষাবিদ তথা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর দাবি, ২৬ দিন ব্যাপী অনশন ভাঙার মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে কেন্দ্র। গোটা ঘটনায় দেশের সব দলের নেতাদের প্রতিই হতাশা বাড়িতে তুলেছে বলে জানিয়েছেন সোনম। (Sonam Wangchuk ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেছেন সোনম। জানিয়েছেন, বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব, আন্দোলনকারী ছাত্রদের প্রতিনিধিদের নিয়ে ঘোষণার হওয়ার আগে পর্যন্ত মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কোনও ছবি প্রকাশ করা হবে না বলে বোঝাপড়া হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বজায় রাখেনি কেন্দ্র। সোনমের বক্তব্য, “মন্ত্রীদের ছবি তোলা হয়ে গিয়েছিল। কথা দিয়েছিলেন, প্রকাশ করবেন না। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন।” (Sonam Wangchuk Hunger Strike) আরও পড়ুন: মায়ানমারের সঙ্গে ভূখণ্ড অদলবদলের ভাবনা, বদলে যাবে আন্তর্জাতিক সীমান্তের রূপরেখা? মণিপুরে অশান্তির আশঙ্কা সোনম জানিয়েছেন, লাদাখে বরাবরই জুস বা স্যুপ পান করিয়ে অনশন ভঙ্গের চল রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়া মেনে নিয়ে ওই রীতিতেই অনশন ভাঙান সরকারের প্রতিনিধিরা। কিন্তু কখনওই তা একপাক্ষিক হয় না। শুধুমাত্র শাসকদলের অনুষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরা হয় না বিষয়টিকে। তাঁর বক্তব্য, “আমি বলেছিলাম যে অন্য দলের নেতৃত্বকেও আনা দরকার। তাঁদের নেতারা, ছাত্রনেতাদের উপস্থিতি জরুরি। যৌথ সমাবেশ চেয়েছিলাম। মধ্যরাতে মন্ত্রীরা হাজির হলে বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলেছিলাম আমি। জানিয়েছিলাম, অনশন ভঙ্গ করব আমি। কিন্তু সেই খবর প্রকাশ করতে হবে আমারই শর্তে। বিরোধী শিবিরের নেতানেত্রী, ছাত্রনেতাদের উপস্থিতি-সহ ছবি প্রকাশ করতে হবে, যাতে বোঝা যায় সকলের চেষ্টায় সম্ভব হয়েছে।” সোনমের দাবি, গোড়াতে তাতেই সম্মত হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর আধিকারিকরাও ওই বোঝাপড়ার সাক্ষী ছিলেন। সকলেই রাজি হন তাতে। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতে ভাঙেন মন্ত্রীরা। তাঁর কথায়, “আমি সব নেতাদের সঙ্গে ছবির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে এক IB অফিসার হাঁফাতে হাঁফাতে এসে বলেন, ‘স্যর, জানি না কী করে। কিন্তু ছবিগুলি টিভি চ্যানেলে পৌঁছে গিয়েছে’।” মধ্যরাতে সরকারের সঙ্গে ‘ডিল’ করার কথা অস্বীকার করেছেন সোনম। তিনি বলেন, “ডিল করার হলে অনেক আগেই করতে পারতাম। ২৬ দিন ধরে অনশনের প্রয়োজন ছিল না। আরও বড় ডিল করতে পারতাম। বলতে পারতাম, আমাকে শিক্ষামন্ত্রী করুন। অনেক সুযোগ ছিল আমার কাছে।” আরও পড়ুন: পাঁচ তলা বাড়ির সমান রকেট আছড়ে পড়ল চাঁদের মাটিতে, নতুন গহ্বরের সৃষ্টি হল চন্দ্রপৃষ্ঠে NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডাকা আন্দোলনে শামিল হন সোনম। শুধু তাই নয়, ছাত্রছাত্রীদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন তিনি। সেই সময় বিভিন্ন দলের রাজনীতিকরা তাঁর পাশে দাঁড়ান। এমনকি যেভাবে চাদর দিয়ে ঢেকে যন্তর মন্তর থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ, তারও তীব্র সমালোচনা হয়। যদিও সোনমের দাবি, গোটা ঘটনায় রাজনীতিকদের উপর থেকে আস্থা চলে গিয়েছে তাঁর। যেভাবে তাঁর বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছে, তিনি আর কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। সোনম আরও জানিয়েছেন যে, তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। রাহুল গাঁধীর হাতে অনশন ভাঙার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। কিন্তু রাহুলের তরফে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।