Success Story: মায়ের FD ভেঙে UPSC-র প্রস্তুতি, ঋণ নিয়ে পড়াশোনা! UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় AIR 316 হয়ে স্বপ্নপূরণ বিপিনের
নয়া দিল্লি: সফল হওয়ার রাস্তা সাধারণত খুব মসৃণ হয় না। সাধারণত একাধিক ব্যর্থতা, মানসিক চাপের সঙ্গে লড়াই করে সেই লক্ষ্যে পৌঁছয় মানুষ। উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকর নগরের বিপিন দেব যাদবের জীবন অনেকটা সেই রকমই। তাঁর বাবা ছিলেন পুলিশ স্টেশনের গার্ড। আর বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তাঁর পরিবারকে ভাঙতে হয়েছে মায়ের

নয়া দিল্লি: সফল হওয়ার রাস্তা সাধারণত খুব মসৃণ হয় না। সাধারণত একাধিক ব্যর্থতা, মানসিক চাপের সঙ্গে লড়াই করে সেই লক্ষ্যে পৌঁছয় মানুষ। উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকর নগরের বিপিন দেব যাদবের জীবন অনেকটা সেই রকমই। তাঁর বাবা ছিলেন পুলিশ স্টেশনের গার্ড। আর বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তাঁর পরিবারকে ভাঙতে হয়েছে মায়ের ফিক্সড ডিপোজিট (FD), নিতে হয়েছে ঋণও। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ৩১৬তম স্থান অর্জন করে সেই ত্যাগের মর্যাদা দিয়েছেন বিপিন। আরও পড়ুন: গঙ্গা ভাঙনের সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী মুখ্যমন্ত্রী, গেলেন দিল্লিতে; আলোচনা করলেন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও বিপিনের বাবা পুলিশ স্টেশনের প্রহরী এবং মা গৃহবধূ। আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেই তাঁর পড়াশোনা এগিয়েছে। UPSC-র প্রস্তুতির জন্য দিল্লিতে গেলেও কয়েক মাসের মধ্যে বুঝতে পারেন, নামী কোচিং সেন্টারের পদ্ধতি তাঁর জন্য উপযুক্ত নয়। এরপর কোচিং ছেড়ে নিজের মতো করে প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। লাইব্রেরিতে দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনা, নিজস্ব কৌশল তৈরি এবং ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্য নিয়ে এগিয়ে চলেন বিপিন। তবে পরিশ্রম করেও বারবার প্রত্যাশিত ফল না হওয়ায় হতাশও হয়ে হয়েছে তাঁকে। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের ভুল চিহ্নিত করেন, ঐচ্ছিক বিষয় পরিবর্তন করেন এবং প্রস্তুতির ধরনেও বদল আনেন। বিপিনের সাফল্যের গল্প শুধু UPSC-তে ৩১৬তম স্থান অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আর্থিক অভাবের কারণে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি কতটা কঠিন হতে পারে, তা তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝেছেন। সেই কারণেই প্রস্তুতির দিনগুলিতে লখনউয়ের ভাগিদারি ভবনে অভাবী পড়ুয়াদের বিনামূল্যে পড়াতে শুরু করেন। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক দিশা ও নিয়মিত পরিশ্রমের সুযোগ পেলে অনেক পড়ুয়াই নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে। অর্থের অভাবে যাতে মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা পিছিয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। বিপিনের যে তথ্য দিয়েছেন সেই অনুযায়ী, তাঁর কাছে পড়াশোনা করা ১৫ জনেরও বেশি পড়ুয়া ইতিমধ্যে UPSC পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। আরও পড়ুন: আগামী ৫ বছরে বাড়ি কিনবেন বলে ভাবছেন, মাসে কত টাকা SIP করবেন জানেন? মায়ের সঞ্চয় ভাঙা থেকে শুরু করে ঋণ নিয়ে পড়াশোনা, কোচিং ছেড়ে নিজস্ব প্রস্তুতির পথ বেছে নেওয়া এবং ব্যর্থতা কাটিয়ে সাফল্য—বিপিনের যাত্রা বহু পরীক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণা। বাবার স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি অন্যদের স্বপ্নপূরণেও সাহায্য করছেন তিনি। তাঁর কাহিনি মনে করিয়ে দেয়, সাফল্য শুধু নিজের লক্ষ্যে পৌঁছনো নয়, বরং নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে অন্যের পথও সহজ করে তোলা।