Supreme Court: বিলকিস বানো গণধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত দু’জনের জামিন মঞ্জুর করল সুপ্রিম কোর্ট, বলা হল, ১৭ বছরের বেশি জেল খেটে ফেলেছে
নয়াদিল্লি: বিলকিস বানো গণধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত দু’জনের জামিন মঞ্জুর করল সুপ্রিম কোর্ট। ওই দু’জনের জামিন মঞ্জুরের কারণ হিসেবে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, ১৭ বছরেরও বেশি সময় জেল খেটেছে তারা। এর আগে, বিলকিস বানো গণধর্ষণ মামলায় ১১ যাবজ্জীবনের সাজাপ্রাপ্ত ১১ জনের আগাম মুক্তি বাতিল করেছিল সু

নয়াদিল্লি: বিলকিস বানো গণধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত দু’জনের জামিন মঞ্জুর করল সুপ্রিম কোর্ট। ওই দু’জনের জামিন মঞ্জুরের কারণ হিসেবে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, ১৭ বছরেরও বেশি সময় জেল খেটেছে তারা। এর আগে, বিলকিস বানো গণধর্ষণ মামলায় ১১ যাবজ্জীবনের সাজাপ্রাপ্ত ১১ জনের আগাম মুক্তি বাতিল করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এবার ১৭ বছর কারাবাসের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখে তাদের জামিন মঞ্জুর করা হল। (Bilkis Bano Case) বিলকিস বানো গণধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত বিপিনচাঁদ কানাইয়ালাল জোশী এবং প্রদীপ রমনলাল মোধিয়াক জামিন মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং পিবি বরালের বেঞ্চ। বুধবার তাদের মুক্তি দেওোয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, মার্চ মাসে গুজরাত এবং মহারাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালে বম্বে হাইকোর্ট তাদের সাজা বহাল রাখার যে নির্দেশ দেয়, তাকে চ্য়ালেঞ্জ জানিয়েছিল জোশী এবং মোধিয়া। (Supreme Court) আরও পড়ুন: 'বাম আমলের অপরাধের ফাইল খুলব', ঘোষণা শুভেন্দুর, বললেন, 'যাহাই তৃণমূল, তাহাই সিপিএম' বুধবার জোশী এবং মোধিয়ার জামিন মঞ্জুর করে আদালত। বৃহস্পতিবার নির্দেশ আপলোড করে দেওয়া হয় ওয়েবসাইটে। বলাহয়েছে, ট্রায়াল কোর্টের শর্ত অনুযায়ী জামিন মঞ্জুর করা হল ওই দু’জনের। জামিনের কারণ ব্যাখ্যা করে বলা হয়, ‘আবেদনকারীরা ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলবন্দি। এটাও সত্য যে আবেদনকারীদের মধ্যে একজনের (জোশীর) শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তাদের আবেদনে কিছু তথ্য এবং আইনগত বিষয় রয়েছে, যা নিঃসন্দেহে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন’। আদালত আরও জানিয়েছে যে, আবেদনকারীদের মধ্য়ে একজনের নাম ছিল না এফআইআর-এ। প্রায় তিন বছর পর মামলায় যুক্ত করা হয় তাকে। ২০১৭ সালে বম্বে হাইকোর্ট তাদের সাজা বহাল রাখার যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ করেই আবেদন জানায় ওই দু’জন। আদালতে জোশী এবং মোধিয়ার হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা এবং সনিয়া মাথুর। জামিনের বিরোধিতা করেন অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল রাজকুমার ভাস্কর ঠাকরে। তিনি জানান, গুরুতর অপরাধ ঘটেছে। গণধর্ষণের মতো ঘটনাও রয়েছে এখানে। নিম্ন আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ করে, অপরাধের ভয়াবহতা বিচার করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আরও পড়ুন: ‘দিল্লিতে বেবি আর আন্টি...দু’জনের এখন ভাব-ভালবাসা হয়ে গিয়েছে’, একযোগে সিপিএম ও মমতা-তৃণমূলকে নিশানা শুভেন্দুর বিলকিস বানো গণধর্ষণ মামলায় ২০০৮সালে দোষী সাব্যস্ত হয় ১১ জন। গুজরাত দাঙ্গার সময় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা, ২১ বছর বয়সি বিলকিসকে গণধর্ষণ করেছিল তারা। হত্যা করেছিল বিলকিসের পরিবারের সাত জনকে। বিলকিসের তিন বছরের মেয়েকে আছড়ে মেরে ফেলা হয়েছিল। ২০২২ সালের অগাস্ট মাসে তাদের মুক্তিতে সম্মতি জানায় গুজরাত সরকার। গলায় মালা পরিয়ে, মিষ্টিমুখ করিয়ে জেলের বাইরে স্বাগত জানানো হয় তাদের। সেই নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় সেই সময়। সেই নিয়ে মামলা হলে ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সাজা কমানোর এক্তিয়ার নেই গুজরাত সরকারের। কারণ মামলাটি মুম্বইয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও মহারাষ্ট্র সরকারের হাতে ন্যস্ত। ২০২২ সালে গুজরাত সরকারকে সাজা মকুবের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে বলা আদালতের যে নথি পেশ করা হয়, তা তথ্য গোপন করে, অসৎ উপায়ে হাসিল করা হয়।