Supreme Court: কাউন্টার থেকে টিকিট কিনলে বিমা বাধ্যতামূলক, রেলকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, যাত্রীসুরক্ষায় জোর দিতে বলা হল
নয়াদিল্লি: ট্রেনযাত্রা নিয়ে এবার বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। সব যাত্রীর সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে টিকিটের উপর বিমা বাধ্যতামূলক করা হল। ভারতীয় রেলকে সেই মতো নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। বলা হয়েছে, কাউন্টার থেকে কেনা টিকিটের উপরও প্রত্যেক যাত্রীকে বিমা দিতে হবে। কোনও রকম গাফিলতি চোখে পড়লে রেল বোর্ডক

নয়াদিল্লি: ট্রেনযাত্রা নিয়ে এবার বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। সব যাত্রীর সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে টিকিটের উপর বিমা বাধ্যতামূলক করা হল। ভারতীয় রেলকে সেই মতো নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। বলা হয়েছে, কাউন্টার থেকে কেনা টিকিটের উপরও প্রত্যেক যাত্রীকে বিমা দিতে হবে। কোনও রকম গাফিলতি চোখে পড়লে রেল বোর্ডকেই সরাসরি দায়ী করা হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হল। ২০২৩ সালের জুন মাসে ওড়িশার ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়ে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। আবেদনকারীর দাবি ছিল, প্রত্যেক ট্রেনে দুর্ঘটনা প্রতিরোধকারী ‘কবচ’ সুরক্ষা থাকার কথা। কিন্তু দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেনটিতে ‘কবচ’ ছিল না। সেই মতো আদালতকে নির্দেশ দিয়ে আবেদন জানানো হয়। বিচারপতি এহসানউদ্দিন আমানুল্লা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চে শুনানি চলছিল মামলাটির। শুনানি চলাকালীন যাত্রীসুরক্ষা, ফুট ওভার ব্রিজ, রেললাইনের ধার বরাবর ফেন্সিং সংক্রান্ত একাধিক বিষয় উঠে আসে। স্টেশনের কাউন্টার থেকে কেনা টিকিটে কেন বিমানর সুবিধা নেই, রেলবাজেটে যাত্রীসুরক্ষা খাতে বরাদ্দ কম কেন, সেই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। রেলের তরফে আরও সক্রিয়তা প্রয়োজন বলে জানান বিচারপতিরা। সরকারের অবস্থানও জানতে চাওয়া হয়। সেই মতো ১১ মে আদালতে নিজের অবস্থান জানায় কেন্দ্র। আদালতে তারা জানায়, অফলাইন টিকিটের ক্ষেত্রেও বিমার সুবিধা সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছে। কার্যপদ্ধতি নির্ধারণের কাজই চলছে এই মুহূর্তে। ১১ মে কেন্দ্রীয় সরকার আদালতকে আশ্বস্ত করে জানায় যে, অফলাইন টিকিটের ক্ষেত্রেও বিমা সুবিধা প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত “নেওয়া হয়েছে” এবং এর “কার্যপদ্ধতি নির্ধারণের কাজ চলছে”। কিন্তু কী কাজ চলছে, কী ভাবা হচ্ছে, তা নিয়ে কেন বিশদ তথ্য নেই প্রশ্ন তোলে আদালত। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়। আদালত নির্দেশ দিয়ে জানায়, রেল যে তিনটি বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে, তাতে বিশেষ বাজেট প্রয়োজন। সেই মতো দু’মাসের মধ্যে যেন বিশদ বিবরণ জমা দেওয়া হয়। কাজ কতদূর এগিয়েছে. সেই সংক্রান্ত তথ্য পেশ করতে বলা হয়েছে আদালতে। এর পর ৬ অক্টোবরের শুনানিতে আদালত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে রেল মন্ত্রকের আধিকারিকদের ভূমিকায়। বিচারপতিরা জানান, কাজ হচ্ছে বলে দাবি করা হলেও বিষয়টি শুধু মুখের কথা হয়ে রয়ে যাচ্ছে। আদালতে ভর্ৎসিত হয়ে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বিক্রমজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়তি সময় চান হলফনামা জমা দিতে। সেই মতো অনুমতিও দেয় আদালত। কিন্তু বিমার প্রশ্নে আদালত জানায়, যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাধারণ, নিম্নবিত্ত মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি এগোয়নি বেশি দূর তাই দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হচ্ছে। ২৭ অক্টোবর থেকে কাউন্টারে ট্রেনের টিকিট কিনলেই বিমা থাকতে হবে, যেমন অনলাইন টিকিট কেনার ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে বিমা একেবারে বাধ্যতামূলক। নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হলে রেলের বোর্ডের উপরই দায় বর্তাবে। আগামী ১৬ নভেম্বর মামলার শুনানি রয়েছে ফের।