Swasthya Sathi: স্বাস্থ্যসাথীতেও বিরাট দুর্নীতি? তথ্য ফাঁস, CAG রিপোর্টে উঠে এল এই সব বিষয়...
ঝিলম করঞ্জাই এবং সন্দীপ সরকার, কলকাতা: ভুয়ো সুবিধাভোগী, হাসপাতালের মান বাড়িয়ে দেখানো থেকে চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘাটতি--- প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়েও ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠল ক্যাগ রিপোর্টে। অন্যদিকে, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামোর অপ্রতুলতার

ঝিলম করঞ্জাই এবং সন্দীপ সরকার, কলকাতা: ভুয়ো সুবিধাভোগী, হাসপাতালের মান বাড়িয়ে দেখানো থেকে চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘাটতি--- প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়েও ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠল ক্যাগ রিপোর্টে। অন্যদিকে, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামোর অপ্রতুলতার কথাও উঠে এসেছে এই রিপোর্টে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। তালিকায় ভুয়ো সুবিধাভোগী, হাসপাতালের মান বাড়িয়ে দেখানো, হাসপাতালের সংখ্যায় ঘাটতি, পর্যাপ্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী না থাকা, অতিরিক্ত খরচের প্রসঙ্গ বারবার উঠে এসেছে ক্যাগের রিপোর্টে। ক্যাগের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত, রাজ্যে রেশন কার্ড হোল্ডারের সংখ্যার তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উপভোক্তা ছিল। এর ফলে এক্ষেত্রেও তালিকায় ভুয়ো উপভোক্তাদের থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ১ কোটি ৬৫ লক্ষ পরিবারকে 'স্বাস্থ্যসাথী' প্রকল্পের স্মার্ট কার্ড দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ক্যাগের রিপোর্টে বলা হয়েছে, নাম নথিভুক্তকরণ এবং স্মার্ট কার্ড দিতে গিয়ে রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত খরচ হয়েছে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা। নমুনা হিসেবে, স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় থাকা ৫০টি বেসরকারি হাসপাতালের নথি যাচাই করে দেখা যায়, ৩১টি বেসরকারি হাসপাতালকেই উচ্চমানের দেখিয়ে রেটিং দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বেশি দামের প্যাকেজ দেওয়ায় সরকারের খরচ হয়েছে অতিরিক্ত সাড়ে ১৪ কোটি টাকা। হাসপাতালের সংখ্যার ঘাটতির কথাও বলেছে ক্যাগের রিপোর্ট। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, ২ কোটির বেশি পরিবারের জন্য ৩ হাজারের বেশি হাসপাতাল থাকার প্রয়োজন থাকলেও, তালিকাভুক্ত ছিল ২ হাজার ৬০৫টি। পরিদর্শন করা ৬৫টি হাসপাতালের মধ্যে চিকিৎসকের ঘাটতি ছিল ৩২টিতেই। ৩৬টিতে নার্স এবং ১৬টি হাসপাতালে ভেন্টিলেটরের মতো জরুরি সরঞ্জামের অভাব ছিল। ক্যাগের রিপোর্টে রয়েছে, বিমা সংস্থাগুলোর কাছে রাজ্য সরকারের বকেয়া ছিল ৭ কোটি ২৬ লক্ষ টাকার মতো। পরে জরিমানা-সহ সেই অঙ্ক ৩১ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু তাও সেই টাকা বিমা সংস্থাগুলোকে মেটানো হয়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী, পর্যাপ্ত বাজেটের অভাবে ২০২২-২৩ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকারকে ৭২১ কোটি টাকা ঋণ নিতে হয়। যার ফলে সুদ বাবদ সরকারকে গুণতে হয়েছে অতিরিক্ত প্রায় ১১ কোটি টাকা। কালীঘাট-তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন বলেন, 'পিএম কেয়ারের হিসেব আগে প্রধানমন্ত্রী দিক, তারপরে এসব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বলব।' স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ পরিকাঠামোর করুণ চেহারাও উঠে এসেছে ক্যাগ রিপোর্টে। তারমধ্যে অন্যতম হল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অভাব। ২০২২-এর মার্চ পর্যন্ত সময়কালের এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৩৬ শতাংশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদই ফাঁকা। সাধারণ চিকিৎসকের অভাব রয়েছে ৪৯ শতাংশ। ৮৯ শতাংশ সাব সেন্টারে কোনও পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মীই নেই। রাজ্যের কমিউনিটি হেলথ সেন্টার বা CHC গুলোতে ৫৪ শতাংশ চিকিৎসকের অভাব রয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই ৯১ শতাংশে। ৮০ শতাংশের বেশি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারেই ছিল না রক্ত রাখার ব্যবস্থা। রাজ্যের জেলা হাসপাতালগুলির চিকিৎসা পরিকাঠামো নিয়েও ক্যাগ রিপোর্টে ধরা পড়েছে উদ্বেগের ছবি। ৬৩ শতাংশ চিকিৎসকের পদ ফাঁকা রয়েছে। ৪৪ শতাংশ প্যারা মেডিক্যাল কর্মীর পদেও লোক নেই। জেলা সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও ৮০ শতাংশ পদই ফাঁকা। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটের আগে ৫ লক্ষ টাকার বিমার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ঘোষণাও তিনিই করেছিলেন। এবার সেসব নিয়েই উঠছে পরিকাঠামোর অভাব থেকে নানা বেনিয়মের অভিযোগ।