Tulu Mondal : টুলু মণ্ডলের 'অঘোষিত পাথর সম্রাট' হওয়ার পেছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ? কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী ?
বীরভূম: এক সময় ছিলেন সাধারণ শ্রমিক। মাথায় ঝুড়ি নিয়ে লরিতে পাথর বোঝাই করতেন। তারপরই হঠাৎ একদিন টুলু মণ্ডল হয়ে উঠলেন ‘পাথরসম্রাট’! কিন্তু কীভাবে তাঁর এই উত্থান? তদন্ত হতেই একের পর এক ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে এসেছে। টুলু মণ্ডলের দুর্নীতির কারবার নিয়ে এবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে নিশানা করলেন

বীরভূম: এক সময় ছিলেন সাধারণ শ্রমিক। মাথায় ঝুড়ি নিয়ে লরিতে পাথর বোঝাই করতেন। তারপরই হঠাৎ একদিন টুলু মণ্ডল হয়ে উঠলেন ‘পাথরসম্রাট’! কিন্তু কীভাবে তাঁর এই উত্থান? তদন্ত হতেই একের পর এক ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে এসেছে। টুলু মণ্ডলের দুর্নীতির কারবার নিয়ে এবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেনদু অধিকারী। শুক্রবার তিনি বলেন, প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সাপোর্ট ছাড়া এটা হতে পারে না। পাল্টা, জবাব দিয়েছে কালীঘাট-তৃণমূলও। বীরভূমের 'অঘোষিত পাথর সম্রাট' ছিলেন তিনি। সেই মহম্মদ নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডলের সম্পত্তির খাদান চমকে দিয়েছে রাজ্য়বাসীকে। কী নেই তাঁর কাছে। প্রাসাদোপম বাড়ি। দামি দামি গাড়ি। কেজি কেজি সোনা ও রূপো উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু, যে প্রশ্নগুলো বারবার উঠছে তা হল কাদের মদতে নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডলের এই রমরমা হয়েছিল? সামান্য শ্রমিক থেকে 'পাথর সম্রাট' হলেন কীভাবে? মাথায় কার হাত? মাথায় কাদের হাত ছিল ? নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলুর মাথায় কাদের হাত ছিল? মানুষের মনে ওঠা এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে নিশানা করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সাপোর্ট ছাড়া এটা হতে পারে না। এত বড় চক্র, এত দিন ধরে সবাই যুক্ত রয়েছে। এটা তো পুরো রাজ্য় সরকার, যিনি লিড করেছেন, দায়িত্ব তাঁরও। সর্বোচ্চ জায়গা থেকে নির্দেশ না গেলে, যেমন, মি. মণ্ডল আমাদের লোক, ওর দিকে তাকাবে না, তাই সবাই চোখ বন্ধ করে রেখেছিল। ১৪ তলা যদি চোখ খুলে রাখে, ওইখান থেকে নির্দেশ যা যায়, নীচ পর্যন্ত তাই হয়। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি তখনই হয়, যখন প্রতিষ্ঠানের মাথা নিজে দুর্নীতিকে মদত করে, তখনই হয়। মুখ্য়মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে, এই টুলু মণ্ডলের কারবারের জন্য় হাজার হাজার কোটি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে রাজ্য় সরকারের। এর প্রধান সুবিধাভোগীকে খুঁজে বার করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। গত ১৫ বছর যাঁরা সরকার চালিয়েছেন, শুধু ১টা জেলা থেকে ১টা আইটেমের ওপরেই ১৫ হাজার কোটি টাকা পশ্চিমবঙ্গের জনগণের রেভিনিউর টাকা, যেটা দিয়ে সরকার অনেক উন্নয়ন করতে পারতেন, চাকরি দিতে পারতেন, সেটা লিকেজ হয়েছে। মেন যে সুবিধাভোগী তাকেও আমরা খুঁজে বের করার জন্য় যা যা করার, যতদূর যাওয়ার, আমরা যাব।'' পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূলও মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল। 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানান, টুলু মণ্ডল যে জেলার, সেই বীরভূমের দুই সাংসদ শতাব্দী রায় এবং অসিত মাল এখন NCPI-তে। এই ইস্য়ুতে তাঁদের কোর্টে বল ঠেলেছেন 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর সাংসদ সৌগত রায়ও। তিনি বলেন, 'আমি এই জীবনে প্রথম ওর নাম টিভি চ্য়ানেলে দেখলাম। আমি জানিও না এরকম একটা লোক আছে। ওর সম্পর্কে শতাব্দী রায়, অসিত মাল ওরা বলতে পারবে। '