US-Iran Conflict: ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইরানে বিরাট হামলা আমেরিকার, পাল্টা উপসাগরীয় দেশে আক্রমণ তেহরানের, কী পরিস্থিতি বিশ্বের?
নয়া দিল্লি: পারস্য উপসাগরে সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার নিল। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট এবং ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর একাধিক দ্রুতগতির নৌকায় (স্পিডবোট) হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই

নয়া দিল্লি: পারস্য উপসাগরে সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার নিল। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট এবং ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর একাধিক দ্রুতগতির নৌকায় (স্পিডবোট) হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। ইরানের দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা উপস্থিতি থাকা একাধিক দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বাহরিন, কুয়েত, কাতার, ওমান এবং জর্ডানের বিভিন্ন এলাকায় হামলার খবর সামনে এসেছে। এদিকে ফের একবার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়তে পারে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানের হামলায় বাণিজ্যিক জাহাজ হুমকির মুখে পড়ায় তারা পাল্টা সামরিক অভিযান চালাতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে তেহরানের বক্তব্য, বিদেশি আগ্রাসনের জবাব দিতেই এই হামলা। মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অভিযানে ইরানের উপকূলবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর একাধিক স্পিডবোট ধ্বংস করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় একাধিক মার্কিন হামলা: এটি ছিল মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর তৃতীয় দফার সামরিক অভিযান। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, ইরান বারবার বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মার্কিন স্বার্থে হামলা চালানোয় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইরানের পাল্টা আক্রমণ: মার্কিন হামলার পর ইরান কুয়েত, কাতার, বাহরিন, ওমান ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত হলেও কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে টানাপোড়েন: বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান আবারও এই জলপথ বন্ধের ঘোষণা দিলেও মার্কিন বাহিনীর দাবি, বিকল্প নৌপথ ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনও চালু রয়েছে। তেলের বাজারে প্রভাবের আশঙ্কা: সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক শিপিং খরচ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ধাক্কা খেল: ওমান ও কাতারে মধ্যস্থতায় চলা আলোচনার মধ্যেই নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কার্যত ভেস্তে গেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।