West Bengal News : এবার কি আর শরিক নয়, সরাসরি বিজেপিতেই মিশে যাচ্ছে NCPI ?
আশাবুল হোসেন, শুভেন্দু ভট্টাচার্য ও সৌমিত্র রায়, কলকাতা : এবার কি 'NCPI' সরাসরি বিজেপিতে মিশে যেতে পারে ? অর্থাৎ তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি বিজেপি সাংসদ হয়ে যেতে পারেন ? রাজ্য রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছে এই জল্পনা। এই নিয়ে বিজেপি কী বলছে ? কালীঘাট তৃণমূলেরই বা প্রতিক্রিয়া কী ? ঘুরপ

আশাবুল হোসেন, শুভেন্দু ভট্টাচার্য ও সৌমিত্র রায়, কলকাতা : এবার কি 'NCPI' সরাসরি বিজেপিতে মিশে যেতে পারে ? অর্থাৎ তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি বিজেপি সাংসদ হয়ে যেতে পারেন ? রাজ্য রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছে এই জল্পনা। এই নিয়ে বিজেপি কী বলছে ? কালীঘাট তৃণমূলেরই বা প্রতিক্রিয়া কী ? ঘুরপথে, রাখঢাক রেখে, কাছে টানার সমাপ্তি। এবার সবটাই সামনাসামনি। তৃণমূলের সদ্য প্রাক্তন তিন রাজ্যসভার সাংসদকে দলে নিয়ে তাঁদের ইস্তফার ফলে খালি হওয়া আসনে, তাঁদেরই রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে বিজেপি। এবার কি লোকসভাতেও বিজেপি যা করবে, তা সরাসরি ? পশ্চিমবঙ্গে ভরাডুবির পর প্রথমে তৃণমূলের বিধায়কদের মধ্য়ে বিদ্রোহ। তৈরি হয়েছে 'ঋতব্রত-তৃণমূল।' এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তৃণমূলের লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদরা 'NCPI' বলে একটি দলে মিশে যান। যাঁরা সরাসরি বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-কে সমর্থনের ঘোষণা করেন। এবার কি 'NCPI' সরাসরি বিজেপিতে মিশে যেতে পারে ? অর্থাৎ তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি বিজেপি সাংসদ হয়ে যেতে পারেন ? ২১ জুলাইয়ের পরই কি এমনটা হতে পারে ? এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেছেন, "এ তো বিশাল ব্যাপার, এরকম জল্পনা তৈরি হয়েছে। থাকুক একটু জল্পনা। আমাদের কিছু বলার নেই। আমি এই নিয়ে এই মুহূর্তে কিছু জানি না। আমার কাছে এই জিনিসের সত্যতা এই মুহূর্তে নেই।" 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর মুখপাত্র ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, "বিধানসভা ভোটে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে এদের সব বিবেক জাগরণ। প্রশ্ন হচ্ছে, রাজ্যসভায় বিদ্রোহীদের ইস্তফা মডেল লোকসভায় নয় কেন ? তাহলে তো লোকসভায় ইস্তফা দেওয়া উচিত। লোকসভার ২০ জন অবিলম্বে ইস্তফা দিন। তাঁরা আছেন কোথায় ? NCPI না তৃণমূল, কোথায় আছেন?" গত ২৪ এপ্রিল আম আদমি পার্টির ১০ জন রাজ্যসভার সাংসদের মধ্যে ৭ জন সাংসদ হঠাৎই বিজেপিতে যোগ দেন। সংখ্য়ায় দুই তৃতীয়াংশ হওয়ায় আইনগতভাবে বিজেপি-তে যোগ দিতেও কোনও অসুবিধা হয়নি। তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভার সাংসদের মধ্য়ে ২০ জনই এখন NCPI-তে, বিজেপির শরিক ! এবার কি আর শরিক নয়, সরাসরি বিজেপিতেই মিশে যেতে পারে NCPI ? অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, "বিজেপি সবচেয়ে বেশি লাভবান হল তৃণমূলের এই ভাগাভাগিতে। কারণ, তাদের সামনে এখন অনেক বিল পাস করানোর ইচ্ছা। বিলগুলো তারা নিয়ে আসতে চলেছে। সেখানে সংখ্যা একটা বড় ব্যাপার। যে সংখ্যার কারণে তারা হেরে গিয়েছিল, আগামী দিনগুলিতে যাতে তা না হয় সেইটা তারা দেখবে। রাজ্যসভার সাংসদদের নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও তাদের যেমন ইচ্ছা দেখা যাচ্ছে, ঠিক তেমন লোকসভার ক্ষেত্রেও তৃণমূলের এই ভাঙনটা তাদের কাজ দেবে। NCPI এনডিএ-তে যোগ করুক বা বিজেপিতে মার্জ করুক, আল্টিমেটলি বিজেপির সংখ্যা বাড়বে।" বিধানসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে, একের পর এক রাজনৈতিক চমকের সাক্ষী হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গবাসী। তাহলে কি আরও এক নতুন চমকের অপেক্ষা ?